আশীর্বাদ

বাবু।
        কেমন আছিস তুই? ভালোই থাকার কথা! তোদের ঘর আলো করে এসেছে ছোট্ট এক পরী। শুনলাম, দেখতে নাকি অনেকটা তার দিদিমার মত হয়েছে! অনেক আশীর্বাদ ওর জন্য।
        তোর চাকরি কেমন চলছে? আর ওই যে স্টার্ট-আপ না কি যেন শুরু করলি, ওটার খবর কি? সবকিছু ঠিকঠাক চলছে তো? কোনো সাহায্য লাগলে বলিস। যদিও মনে হয় না তেমনটা হবে।
তোর মা বলছিল তোরা নাকি ঢাকাতেই পার্মানেন্টলি থাকার চিন্তা-ভাবনা করছিস। ভালোই। অন্তত এক দেশে এক শহরে তো থাকা হবে!
        তোর মা ভালো আছে। আর আমিও। চলে যাচ্ছে আমাদের দিন কোনো ভাবে। এখানে কোনো কিছুরই অভাব হয় না। এরা আপন কেউ না হলেও নিজের মানুষ মনে করে ভালোভাবেই খেয়াল রাখে। শুধু ছেলে, ছেলের বৌয়ের সাথে থাকা হল না আরকি!
        সেদিন যে তুই বের হয়ে গেলি ঘর থেকে, আর ফিরলি না। তোকে কখনো বলাও হল না, কতটা অনুশোচনা কাজ করে আজো আমার মধ্যে। তুই তো আমার কল ধরিস না, তোর মা ফোন ধরিয়ে দিলেও হুঁ-হাঁ করেই পার করে দিস। মনে হয় আজো ভুলতে পারিস নি। অবশ্য ভুলতে পারার কথাও নয়।
        চাকরি-বাকরির খোঁজে থাকা এক তরুণকে তার বাবা মানুষজনের সামনে থাপ্পর মারলে সেটা অনেক অপমানজনক হয়। আমি বুঝতে পারছি। এ এক অনেক বড় ভুল যার ক্ষমাও হয়ত নেই! কিন্তু সেই তরুণ ঘর থেকে বের হওয়ার ২০ বছর পরেও আর কখনো তার বাবার সাথে কথা না বললে তা যে কত বড় শাস্তি, তা তুই কখনোই বুঝতে পারবি না। আমি জানি তুই আর কখনো আমাদের কাছে ফিরবি না। যেখানেই থাকিস, সুখে থাকিস, ভালো থাকিস।
        আশীর্বাদ তোদের জন্য। জীবনে আরো অনেক উন্নতি কর। সুখে থাক, শান্তিতে থাক।
আশীর্বাদান্তে
                                                                                                                                                 তোর বাবা
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s