সব চাওয়া তো. .. … …. … .. .

হঠাৎ কিসের জন্য আজ ডাকলো কে জানে! সেই দিনের পর তো আর দেখাই হয়নি।

আশ্চর্যজনক ব্যাপারই বলা যায়। আমাদের বন্ধুমহল অনেকটাই মিলে। আর এমন না যে বন্ধু-বান্ধবের সাথে এতগুলো বছরে আমি বা সে একজনও কোনো জায়গায় যাইনি বা কারো কোনো অনু্ষ্ঠান হয়নি। কিন্তু ঘোরাঘুরি হোক অথবা কোনো অনু্ষ্ঠান, ও থাকলে আমি নেই আর আমি থাকলে ও নেই! অদ্ভুত এক ব্যাপার!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই যুগে আসলে সামনাসামনি দেখা না হলেও সম্পর্ক ঠিকই থাকে মানুষের। তাই হয়ত তার সাথে এখনো বন্ধুত্বটা আছে। অন্তত সেটাই আমরা দুইজনই ভাবি। বিভিন্ন উপলক্ষে আমরা একজন আরেকজনকে স্মরণ করি এখনো। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্নাতক জীবন পার করে আসার খুশিতে তোলা ছবিটাই আমাদের শেষ একসাথে হওয়া।

সেই সময় আর এই সময়ের মধ্যে ঘোলা হয়েছে কত জল। উপরে উঠেছে আমাদের ক্রিকেট এমনকি ফুটবল দলও! দারিদ্র্যে, অরাজকতায় আর চাহিদায় শীর্ষে থাকা দেশ এখন সমৃদ্ধতায় আর সাফল্যে উপরের দিকে। শিক্ষা, অর্থনীতি, কূটনীতি, রাজনীতি……………….নাহ! রাজনীতিতে বোধ হয় বাকি ক্ষেত্রগুলোর মত ততটা ভালো দিন আজো আসেনি।

তবে দেশ, দুনিয়া এমনকি আমিও এগিয়ে গিয়েছি অনেকখানি। জীবনে অতদূর হয়ত যেতে পারিনি যতদূর  যাবার আশা ছিলো। কিন্তু থেমে তো যাইনি। গিয়েছি অনেক দূরই। আর সে? সবসময় অনেক হা-হুতাশ করতো। তখনই বলতাম, আকাশ ছোঁয়ার সামর্থ্য নিয়ে তার এসব হা-হুতাশ এক প্রকার ঢং ই। তখন ভেংচি কাটত। আজ কি বলবে কে জানে!

ওই যে দেখা যাচ্ছে। আসছে এইদিকেই। ৭ বছর। ৭ টি বছর পর তার চেহারা সামনাসামনি দেখার সৌভাগ্য হল। নাহ! একটুও পাল্টায়নি। আগের মতই আছে। এসেই যথারীতি একটা ঝাড়ি

‘খবর তো একদমই নিস না! আমি না ডাকলে তো মনে হয় এই জীবনে আর দেখা হত না।’

‘কি আর করা! ডেকেছিস যেহেতু, এখন তো খোঁচা দিবিই! কি কারনে এই অধমকে স্মরণ করা, বল!’

‘আহারে! ঢং এর ছিরি দেখো! এত বড় মানুষ। দামী গাড়ি চালিয়ে আসে। সে নাকি অধম।’

‘আমি তো গাড়ি চালিয়ে আসি। তুমি তো ড্রাইভার না খুলে দেওয়া পর্যন্ত দরজাটা খুলেও বের হও না!’

এটা শুনে তার সেকি হাসি। আজো তার হাসি আগের মতই আছে। দেখেই থাকতে ইচ্ছা করে।

‘তারপর? প্রেমিকার সাথে কেমন যাচ্ছে দিন? নাকি না জানিয়ে বিবাহতও হয়ে গিয়েছিস?’

‘আরে নাহ! কি যে বলিস। আমাকে কে বিয়ে করবে! বিয়ে তো করবে তোকে। ঘরে বসে কোটিপতির স্বামী হবে, আর কি লাগে!’

‘হ্যাঁ হয়েছে। আর বলতে হবে না। বিয়ের কথাটা খারাপ বলিসনি অবশ্য।’

‘তাহলে অবশেষে তোকেও কেউ সহ্য করতে যাচ্ছে। ভালো তো!’

‘মেরে হাড্ডি ঝুকিয়ে দিবো হারামজাদা। আমাকে সহ্য করা কি এত কঠিন?’

‘নাহ। সামান্য আর কি! তা ছেলে কে, কি, কেমন?’

‘বিদেশে থাকে। আম্মু-আব্বুর পছন্দ। তারা ঠিক করেছেন।’

‘আমি থাকতে আরেকজনকে ঠিক করে ফেললেন?’

‘ফাজলামি করিস না তো। ছেলে নাকি অনেক ভালো। আগে প্রেমটাও করে নি। একবারে বিয়ে। আম্মু-আব্বু ওর ব্যাপারে অনেক খুশি।’

‘আর তুই?’

‘সব চাওয়া তো আর সবসময় পাওয়া হয় না! পরিবারের খুশিতে আমি সবসময় খুশি। জানিসই তো।’

‘হুম্মম! সেটাই।’

‘এই নে কার্ড। ৪ টা অনুষ্ঠানেরই কার্ড আছে। তোকে যেন অবশ্যই দেখি। না দেখলে তোর বাসায় গিয়ে ধরে নিয়ে আসবো।’

‘আনবি তো?’

‘আসিস। ভালো লাগবে।’

‘অবশ্যই চেষ্টা করবো।’

‘আরো জায়গায় যেতে হবে। থাক রে, দেখা হবে।’

‘ভালো থাকিস।’

হঠাৎ বৃষ্টি নামলো। কার দুঃখে কে জানে! গাড়িতে উঠে পড়লো সে। একটু কি পিছনে তাকালো? কে জানে! কার্ডটা হাতে নিয়ে অনেক কিছুই ভাবলাম। অনেক কিছুই ছিলো চাওয়া, এই কার্ডের ব্যাপারে। অনেকটাই অন্যরকমভাবে। কিন্তু ও তো বলেই গেলো। সব চাওয়া তো আর সবসময় পাওয়া হয় না!

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s